স্মল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট

জীবনে সফল হতে হলে প্রয়োজন একটি সঠিক সুযোগ এবং সেই সুযোগকে কাজে লাগানোর অনমনীয় সংকল্প। এই দুটির চমৎকার মিলনে কীভাবে একজন মানুষ তার ভাগ্য আমূল বদলে ফেলতে পারেন, তারই এক জীবন্ত উদাহরণ শাহ শফিউর রহমান। আস-সুন্নাহ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের হাত ধরে অনিশ্চিত এক জীবন থেকে তিনি আজ ১২ জনের একটি টিমের সফল পরিচালক!
অনিশ্চয়তার দিনগুলো
শাহ শফিউর রহমানের ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল আর দশটা সাধারণ তরুণের মতোই। তিনি একটি মাদরাসায় কর্মরত ছিলেন, যেখানে মাস শেষে তার আয় হতো মাত্র ১২,০০০ টাকা। ওপর ওপর সবকিছু ঠিকঠাক মনে হলেও, বর্তমানের এই দ্রব্যমূল্যের বাজারে এই সীমিত আয় নিয়ে তিনি ভেতরে ভেতরে ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় মগ্ন থাকতেন। কীভাবে এই বৃত্ত থেকে বের হওয়া যায়, সেই পথ খুঁজছিলেন তিনি।
ঠিক সেই সময়ে তিনি জানতে পারেন আস-সুন্নাহ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট সম্পর্কে। কয়েকটি মূল্যায়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি প্রতিষ্ঠানটির স্মল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কোর্সের (ব্যাচ ৬) অধীনে তিন মাসের একটি কম্পিউটার কোর্সে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান। আর এই সুযোগটিই তার জীবনের মোড় সম্পূর্ণ বদলে দেয়।
শুধু কারিগরি শিক্ষা নয়, জীবন গড়ার পাঠ
আস-সুন্নাহ ইনস্টিটিউটের এই তিন মাসের জার্নিটি শফিউরের জন্য শুধু কিছু সফটওয়্যার শেখার মাধ্যম ছিল না। শফিউরের ভাষায়:এই কোর্সটি আমাকে কেবল কারিগরি দক্ষতাই শেখায়নি—এটি আমাকে আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জগুলো বুঝতে শিখিয়েছে, আমার ভেতরে আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে এবং সবচেয়ে বড় কথা, দ্বীন ও দুনিয়াবি জীবনের মধ্যে কীভাবে সুন্দর ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়, তা শিখিয়েছে।
গ্রাফিক ডিজাইন থেকে ভিডিও এডিটিং : দক্ষতার নিত্য নতুন ধাপ
কোর্সটি সফলভাবে শেষ করার পর শফিউর আর পেছনে ফিরে তাকাননি। অর্জিত দক্ষতাকে পুঁজি করে তিনি ঢাকায় একজন পেশাদার গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজ শুরু করেন। কিন্তু তিনি সেখানেই থেমে থাকেননি। যুগের চাহিদাকে মাথায় রেখে পরবর্তীতে তিনি ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ শেখেন, যা তার কাজের পরিধি ও আয়কে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আজ তিনি এক সফল টিম লিডার
কঠোর পরিশ্রম, সততা আর অনমনীয় সংকল্পের ফল আজ শফিউরের হাতের মুঠোয়। আলহামদুলিল্লাহ, ২০২৬ সালের এই সময়ে এসে তার মাসিক আয় এখন ৪০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা!
সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, শফিউর এখন আর একা কাজ করেন না। কর্মসংস্থানের অভাবের এই দেশে তিনি অন্য যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করছেন। শুরুতে মাত্র ৩ জনকে নিয়ে তার যে ছোট টিমটি যাত্রা শুরু করেছিল, আজ সেই টিমটি ১২ জনের একটি দক্ষ ও বড় পরিবারে উন্নীত হয়েছে।
শফিউরের গল্প থেকে আমাদের শিক্ষা
শাহ শফিউর রহমানের এই গল্প আমাদের শেখায় যে, প্রথাগত ক্যারিয়ারের বাইরেও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও ব্যবসার সঠিক ম্যানেজমেন্ট জানা থাকলে স্বাবলম্বী হওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। আস-সুন্নাহ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট শফিউরের এই অনন্য সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।


