আস-সুন্নাহ ড্রাইভিং স্কুল

আমাদের ড্রাইভিং স্কুল থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া আজাদের আয় এখন তিনগুণ বেশি! অথচ এ পর্যন্ত আসতে আজাদকে বহু ঝড়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
স্বপ্নভঙ্গ ও জীবনের কঠিন বাস্তবতা
রাজশাহীর বাগমারার ছেলে আজাদ চার বছর আগে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে স্বপ্ন দেখছিলেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ভাইভা থেকে বাদ পড়তে হয় তাকে। স্বপ্নভঙ্গের সেই মুহূর্তটায় আজাদ একেবারে ভেঙে পড়েন। তবে অভাবী পরিবারের দিকে তাকিয়ে আবার ঘুরেও দাঁড়াতে হয় তাকে। পড়াশোনার ইতি টেনে চাকরি খোঁজা শুরু করেন। কিন্তু এই দেশে চাকরি সে তো সোনার হরিণ!
লড়াইয়ের শুরু
অবশেষে কোনো উপায় না দেখে ট্রাকের হেল্পারিতে যুক্ত হন আজাদ। উচ্চমাধ্যমিক পাস করা তরুণের ট্রাকের হেল্পারি করা নিয়ে গ্রামের মানুষের কটূ মন্তব্যের অন্ত ছিল না। কিন্তু আজাদ এসব কথায় কান দেননি। তার লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট। তিনি বিশ্বাস করতেন, পরিস্থিতি একদিন বদলাবে এবং তিনি সফল হবেন।
জীবন বদলানোর ভাবনা
চার বছর হেল্পারি করার পর তার মনে প্রশ্ন জাগে—তিনি কেন হেল্পার হয়েই জীবন কাটাবেন! ড্রাইভার কেন নন! সেই ভাবনা থেকেই তিনি যুক্ত হন আস-সুন্নাহ গুলজার বাহার খানম ড্রাইভিং স্কুলে। এই কোর্স তার জীবন বদলে দেয়।
সাফল্যে নতুন দিগন্ত
শিক্ষকদের আন্তরিকতা, নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং নিজের কঠোর পরিশ্রমে কোর্স শেষে তিনি হয়ে ওঠেন একজন দক্ষ চালক। প্রশিক্ষণ শেষে আস-সুন্নাহ স্কিল ডেভেলপমেন্টের রেফারেন্সেই আজাদের জীবনে ঘটে বড় পরিবর্তন। তিনি এখন অত্যন্ত সম্মানজনক একটি চাকরিতে নিয়োজিত। হেল্পারি করতে গিয়ে যা আয় করতেন, দক্ষ ড্রাইভার হিসেবে এখন তার আয় সেই পরিমাণের তিনগুণ।
আজাদের গল্প থেকে আমাদের শিক্ষা
আজাদের এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প আমাদের শেখায়, কোনো কাজই ছোট নয়। সততা, ধৈর্য এবং সঠিক প্রশিক্ষণ থাকলে ভাঙা স্বপ্নও নতুন করে জোড়া লাগানো যায়


